Dhaka , রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ বছর ধরে বো*মার উপর ধোয়া হচ্ছিল কাপড় অতঃপর একদিন হঠাৎ …

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ১০৪৯ Time View

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় প্রায় ১০ বছর ধরে একটি বোমা সদৃশ বস্তুকে পাথর ভেবে কাপড় ধোয়ার কাজে ব্যবহার করে আসছিলেন স্থানীয়রা। সম্প্রতি বস্তুটির আকৃতি ও গঠন নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হলে পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তুটি উদ্ধার করে সংরক্ষণে নেয়।

ঘটনাটি ঘটে রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের লট উখিয়ারঘোনা তচ্ছাখালী এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে।  শনিবার দুপুরে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রামু থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমা সদৃশ বস্তুটি নিরাপদ হেফাজতে নেয়।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বস্তুটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত অবিস্ফোরিত অথবা অকার্যকর বোমা হতে পারে।

তিনি বলেন, বস্তুটির কার্যকারিতা এবং এর ভেতরে বিস্ফোরক রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ কারণে সেনাবাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে এবং তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বোমাটি বর্তমানে একটি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং পুরো এলাকা নজরদারিতে রাখা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি না হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় এক দশক আগে পাশের একটি পুকুর থেকে বস্তুটি পাওয়া যায়। ভারী ও শক্ত হওয়ায় সেটিকে সাধারণ পাথর মনে করে পুকুরপাড়ে রেখে দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নারী ও পুরুষরা সেখানে কাপড় ধোয়ার কাজে সেটি ব্যবহার করে আসছিলেন।

রামুর ইতিহাস গবেষক ও আইনজীবী শিরূপন বড়ুয়া বলেন, বস্তুটির আকৃতি ও গঠন দেখে এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বোমা বলেই মনে হচ্ছে। তিনি জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে এই অঞ্চলে জাপানি বাহিনীর অবস্থান ছিল এবং সে সময় এখানে বিভিন্ন সামরিক অস্ত্র ও বোমা ব্যবহৃত হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, যদি পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে বোমাটিতে কোনো বিস্ফোরক নেই, তাহলে এটি নিষ্ক্রিয় করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে সংরক্ষণ করা উচিত। এটি রামু এলাকার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হতে পারে। তবে বিস্ফোরক থাকলে জননিরাপত্তার স্বার্থে অবশ্যই তা নিষ্ক্রিয় করতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

অবশেষে বে’রিয়ে এলো চা’ঞ্চল্যকর ঘ’টনা।DNA টে’স্ট করে জা’না গেল রামি…..M

১০ বছর ধরে বো*মার উপর ধোয়া হচ্ছিল কাপড় অতঃপর একদিন হঠাৎ …

Update Time : ০৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় প্রায় ১০ বছর ধরে একটি বোমা সদৃশ বস্তুকে পাথর ভেবে কাপড় ধোয়ার কাজে ব্যবহার করে আসছিলেন স্থানীয়রা। সম্প্রতি বস্তুটির আকৃতি ও গঠন নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হলে পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তুটি উদ্ধার করে সংরক্ষণে নেয়।

ঘটনাটি ঘটে রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের লট উখিয়ারঘোনা তচ্ছাখালী এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে।  শনিবার দুপুরে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রামু থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমা সদৃশ বস্তুটি নিরাপদ হেফাজতে নেয়।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বস্তুটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত অবিস্ফোরিত অথবা অকার্যকর বোমা হতে পারে।

তিনি বলেন, বস্তুটির কার্যকারিতা এবং এর ভেতরে বিস্ফোরক রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ কারণে সেনাবাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে এবং তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বোমাটি বর্তমানে একটি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং পুরো এলাকা নজরদারিতে রাখা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি না হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় এক দশক আগে পাশের একটি পুকুর থেকে বস্তুটি পাওয়া যায়। ভারী ও শক্ত হওয়ায় সেটিকে সাধারণ পাথর মনে করে পুকুরপাড়ে রেখে দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নারী ও পুরুষরা সেখানে কাপড় ধোয়ার কাজে সেটি ব্যবহার করে আসছিলেন।

রামুর ইতিহাস গবেষক ও আইনজীবী শিরূপন বড়ুয়া বলেন, বস্তুটির আকৃতি ও গঠন দেখে এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বোমা বলেই মনে হচ্ছে। তিনি জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে এই অঞ্চলে জাপানি বাহিনীর অবস্থান ছিল এবং সে সময় এখানে বিভিন্ন সামরিক অস্ত্র ও বোমা ব্যবহৃত হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, যদি পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে বোমাটিতে কোনো বিস্ফোরক নেই, তাহলে এটি নিষ্ক্রিয় করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে সংরক্ষণ করা উচিত। এটি রামু এলাকার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হতে পারে। তবে বিস্ফোরক থাকলে জননিরাপত্তার স্বার্থে অবশ্যই তা নিষ্ক্রিয় করতে হবে।