• বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ন |
  • English Version
Headline :
সোহেল রানা নতুন না’টক শুরু করছে। সে বলে রা’মিসাকে নাকি দুই লা”খ টা…. see more এই লোক ঢাকা শহরে রিকশা চালাতো। সেখানেই ধীরে ধীরে …See more মেয়েটির নাম জুঁই। বর্তমান বয়স ১৩। এই বয়সেই…see more আগস্ট ও সেপ্টেম্বর টানা দুই মাসে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকবে? বিস্তারিত কমেন্টে শেখ হা’সিনা সম্পুর্ণ নি’র্দোষ এই কথা বলায় গ্রে…see more ৯ বছর পর প্রবাসী স্বামীকে পেয়ে বিমান বন্দর থেকে উল্লাসে উপরে উঠে স্বামীর মেরুদণ্ড ভে… ট্রেনের ভিতরে ঘটে গেল বিরল ঘটনা স্বামী তার স্ত্রীকে গামছা দিয়ে ঢেকে…see more ভু’ট্টা ক্ষে’তে সারারাত পা’হারা দেওয়ার পরে দেখেন একটি মু…See more বিয়ের পরের দিন নতুন বউ বাসর ঘরে বসে ছিল হঠাৎ দুইটা মহিলা এসে নতুন বউয়ের বিছানা..see more ফেসবুকে এবার ফ্রিতে মিলবে ভেরিফায়েড ব্যাজ, যেভাবে পাবে…See more

অতীতে পাশ্চাত্যের নারীরা মুড সুইং বিষণ্নতায় ভুগলে তাদেরকে স্বামীরা চিকিৎসকের কাছে…more

Reporter Name / ২৪৪২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ন

অতীতে পাশ্চাত্যের নারীদের বিষণ্নতা ও ‘মুড সুইং’-এর চিকিৎসা: ইতিহাসের এক বিতর্কিত অধ্যায়
বর্তমান সময়ে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু কয়েক শতাব্দী আগে, বিশেষ করে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশে, নারীদের মানসিক সমস্যা সম্পর্কে ধারণা ছিল একেবারেই ভিন্ন। কোনো নারী যদি দীর্ঘদিন মন খারাপ, উদ্বেগ, অতিরিক্ত আবেগপ্রবণতা, রাগ, কান্না বা আচরণগত পরিবর্তনের মতো লক্ষণ দেখাতেন, তবে অনেক ক্ষেত্রেই এগুলোকে সঠিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা হতো না।

ঐতিহাসিক নথিতে দেখা যায়, উনিশ ও বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে নারীদের নানা ধরনের মানসিক ও শারীরিক উপসর্গকে প্রায়ই “হিস্টেরিয়া” (Hysteria) নামে একটি বিস্তৃত রোগের আওতায় ফেলা হতো। সে সময় চিকিৎসাবিজ্ঞান এখনও মানসিক রোগ সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জন করতে পারেনি। ফলে অনেক নারীকে এমন একটি রোগের রোগী হিসেবে বিবেচনা করা হতো, যার প্রকৃত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছিল দুর্বল।

সে সময় কোনো নারী বিষণ্নতা, উদ্বেগ বা মুডের ওঠানামায় ভুগলে পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে স্বামীরা, চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতেন। তবে চিকিৎসার ধরন আজকের মানদণ্ডে অনেক ক্ষেত্রেই অকার্যকর, অপ্রয়োজনীয় কিংবা ক্ষতিকর বলে বিবেচিত হয়। বিশ্রাম, বিচ্ছিন্ন পরিবেশে রাখা, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ-চিকিৎসার প্রাথমিক রূপও ব্যবহার করা হতো। এসব পদ্ধতির অনেকগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে বর্তমানে প্রশ্ন রয়েছে।

বিশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে মনোরোগবিদ্যা ও স্নায়ুবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে গবেষকেরা বুঝতে শুরু করেন যে বিষণ্নতা, উদ্বেগ, বাইপোলার ডিসঅর্ডারসহ বিভিন্ন মানসিক সমস্যা বাস্তব চিকিৎসাযোগ্য স্বাস্থ্যগত অবস্থা। এগুলোর সঙ্গে মস্তিষ্কের রাসায়নিক পরিবর্তন, বংশগত প্রভাব, জীবনযাত্রা, সামাজিক চাপ এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সম্পর্ক রয়েছে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চিকিৎসকেরা মুড সুইং বা বিষণ্নতার ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন করে কাউন্সেলিং, কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি (CBT), অন্যান্য মনোচিকিৎসা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধের সমন্বয়ে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি নিয়মিত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, পরিবার ও বন্ধুদের সহযোগিতা এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক অসুস্থতা লজ্জার বিষয় নয় এবং এটি কোনো দুর্বলতারও পরিচয় নয়। শারীরিক অসুস্থতার মতোই মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রেও সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। অতীতের অনেক ভুল ধারণা ও চিকিৎসা পদ্ধতি আজ ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এখন প্রমাণভিত্তিক পদ্ধতির মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করে তুলেছে।

ইতিহাস আমাদের শেখায় যে চিকিৎসাবিজ্ঞান সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। তাই পুরোনো চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করার সময় ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বোঝা যেমন জরুরি, তেমনি বর্তমান সময়ে বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত চিকিৎসা গ্রহণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category